জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফারহান ফাইয়াজ)-এর বাবা শহিদুল ইসলাম দ্রুত বিচার সম্পন্ন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ হয়নি। গণতন্ত্র, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং সংবিধান সংস্কারের দাবিতে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এখনও হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম জানান, ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫৪ জনের বিরুদ্ধে হত্যা ও গণহত্যার অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, রাজনৈতিক নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদেরও নাম রয়েছে।
তার ভাষায়, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং শহীদদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় রাষ্ট্র আবারও সংকটের মুখে পড়তে পারে।
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজ। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ ও ছাত্রলীগের হামলায় মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কনিষ্ঠ শহীদ হিসেবে পরিচিত।
ফারহানের স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ধানমন্ডির পুরোনো ২৭ নম্বর সড়কের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সড়ক’ রাখা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু-কিশোরদের জন্য নির্মিত একটি খেলার মাঠের নামও রাখা হয়েছে ‘শহীদ ফারহান ফাইয়াজ খেলার মাঠ’।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ফারহানের স্বপ্ন ছিল উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে সেই স্বপ্ন অসমাপ্ত থেকে যায়।
ফারহানের বাবা, মা ফারহানা দিবা এবং বোন সায়ীমা ইসলাম বলেন, বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের শোক ও কষ্টের অবসান হবে না। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

