ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন না বলে ভারতীয় সংসদের পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংসদীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক স্থায়ী কমিটির সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনার কথা বলার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এম আসাদুজ্জামান জানান, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটিকে জানায়, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের পাঠানো অনুরোধ দেশটির প্রচলিত আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানবিক নীতির অংশ হিসেবে শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের দীর্ঘদিনের নীতিই হলো, দেশটির ভূখণ্ড কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।
‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংসদীয় কমিটি দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দ্রুত স্বাভাবিক ভিসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালুর আহ্বান জানানো হয়েছে।
কমিটির মতে, ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় দুই দেশের জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২৮ জুন প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য আবার পর্যটক ভিসা চালু করে ভারত।
প্রতিবেদনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে দ্রুত নবায়ন আলোচনা শুরুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে হালনাগাদ জলপ্রবাহের তথ্য, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকারের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় কমিটি আরও বলেছে, বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার বিষয়টি ভারতের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনায় রাখা উচিত এবং এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

