মো. মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ঝালকাঠি জেলা প্রতিনিধি:
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার একটি মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়ার নামে অর্থ গ্রহণের অভিযোগে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে ভিডিওটি ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে ভিডিওতে অর্থ গ্রহণের বিষয়টি চাকরির বিনিময়ে নয়, ব্যক্তিগত লেনদেনের অংশ বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মাদ্রাসা সভাপতি।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, নলছিটি উপজেলার রানাপাশা হোসাইনিয়া হামিদিয়া মাদ্রাসার সভাপতি ঝালকাঠি লঞ্চঘাট (বান্ধাঘাট) এলাকার নাছির তালুকদারের বাসায় অফিস সহায়ক পদের আবেদনকারী রানাপাশা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মো. কাওছার উপস্থিত রয়েছেন। ভিডিওতে সভাপতিকে পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনা করতে এবং মোবাইল ফোন সঙ্গে না আনার কথা বলতে শোনা যায়। একপর্যায়ে কাওছার ৫০০ টাকার নোটের একটি বান্ডিল গুনে সভাপতির হাতে তুলে দেন, যা তিনি গ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পর মাদ্রাসায় কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তা প্রহরী—এই তিনটি পদে নিয়োগের জন্য চলতি বছরের এপ্রিল মাসে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। অফিস সহায়ক পদে আবেদনকারী মো. কাওছারের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তার কাছে মোট ৭ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এর মধ্যে গত ১ জুলাই ১ লাখ টাকা এবং ১৪ জুলাই আরও ১ লাখ টাকা প্রদান করেন বলে তিনি দাবি করেন। পরে অন্য একজনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে জানতে পেরে প্রথম দফায় অর্থ দেওয়ার সময় গোপনে ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সভাপতি নাছির তালুকদার বলেন, “চাকরি দেওয়ার কথা বলে আমি কোনো টাকা নিইনি। ভিডিওতে যে টাকা গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে, সেটি আমার সঙ্গে কাওছারের ব্যক্তিগত লেনদেনের টাকা। চাকরির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।”
অন্যদিকে অভিযোগকারী মো. কাওছার দাবি করেন, ভিডিওতে চাকরি, পরীক্ষা গ্রহণ এবং বিল পাসের বিষয়ে যে কথোপকথন রয়েছে, তা থেকেই অর্থ গ্রহণের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি দপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

