ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা করে অক্টোবর মাসের মধ্যেই ভোটগ্রহণের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।
নির্বাচন কমিশনার জানান, দেশের স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনগুলো কতটি ধাপে সম্পন্ন হবে তা এখনো কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করেনি। তবে প্রশাসনিক দক্ষতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কম সময়ে যেন বেশি সংখ্যক নির্বাচন শেষ করা যায়, সেই কৌশল নির্ধারণ করা হচ্ছে।
কোন প্রতিষ্ঠান দিয়ে ভোট শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান:
ধারাবাহিকতা রক্ষা: নির্বাচন ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে যে স্তরের নির্বাচন শুরু হবে, সেটি পুরো দেশে একবারে শেষ করা হবে। (যেমন—ইউনিয়ন পরিষদ শুরু হলে আগে ইউনিয়ন পরিষদ, অথবা পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন হলে সেটি পুরোপুরি সম্পন্ন করা হবে)।
আইনি ও আদালতের বাধ্যবাধকতা: যে নির্বাচনই আগে আনা হোক না কেন, আদালত বা আইনের কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে সেটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা কিংবা প্রবাসীরা এই নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কি না—এমন বহুল আলোচিত দুটি প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার স্পষ্ট করেন যে:
শিক্ষাগত যোগ্যতা: প্রার্থীদের সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এখনো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।
প্রবাসী ভোটাধিকার: প্রবাসী ভোটাররা স্থানীয় সরকারের ভোটাধিকার পাবেন কি না—সে বিষয়েও এখন পর্যন্ত কোনো নীতিগত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ বিবেচনায় রেখেই ধাপে ধাপে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য কমিশন সব ধরণের প্রাক-প্রস্তুতি গুছিয়ে আনছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসি।

