মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যাওয়া এলাকাগুলো থেকে পানি নেমে গেছে। কিন্তু পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন দুর্ভোগ। ঘরে-বাড়িতে হাঁটু সমান কাদা, আসবাবপত্র-রান্নার জিনিসপত্র সব ময়লায় ভরা। রাস্তাঘাটের অবস্থাও নাজুক।
সরেজমিনে দেখা যায়, অনেক পরিবার এখনো ঘরে ফিরতে পারেনি। যারা ফিরেছে তারা বালতি-কোদাল হাতে কাদা পরিষ্কার করছে। বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগতে হচ্ছে সবাইকে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক কৃষকরা। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে তাদের মাসের পর মাসের পরিশ্রম।
এমনই একজন কৃষক মো আবদুল আলম তিনি এনজিও থেকে লোন নিয়ে জমিতে শসার চাষ করেছিলেন। স্বপ্ন ছিল ফসল বিক্রি করে লোন শোধ করবেন, পরিবার নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করবেন।
তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
এনজিওর লোনের টাকা দিয়ে শসার খেত করছিলাম। সার, বীজ, শ্রমিকের খরচ সব দিছি। এক রাতের পানিতে সব শেষ। এখন খেতেও নাই, লোন শোধ করবো কেমনে সেই চিন্তায় ঘুম নাই। কপালে শুধু হাত।
কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব বলছে, বন্যায় বান্দরবানের নিম্নাঞ্চলের শত শত একর সবজি ও ধানের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক কৃষকই মোঃ মোস্তফা মতো এনজিও কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করেছিলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, পানি নেমেছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষতে গিয়ে তারা এখন দিশেহারা। জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ, বিশুদ্ধ পানি, কাদা পরিষ্কার এবং কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ ও কৃষি প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা চিহ্নিত করে তালিকা করা হচ্ছে। খুব দ্রুত ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু হবে।

