ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার ২ নং চর ঝাউকান্দ ইউনিয়নের চর গোপালপুর ভাটার ঘাট এলাকায় টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারের মাঝে সরকারি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
এর আগে গত ১২ জুলাই “টানা বৃষ্টিতে ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে জনদুর্ভোগ” শিরোনামে বাংলা এফএমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এদিন মোট ৫৬টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অন্তত ৩০০টি ত্রাণ প্যাকেজ প্রয়োজন ছিল।
ত্রাণপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা বলেন, জরুরি মুহূর্তে প্রশাসনের এই সহায়তা তাদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা বিবেচনায় আরও ত্রাণ বরাদ্দের দাবি জানান তারা।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২ নং চর ঝাউকান্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা (বদু), উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার সেলিম খান এবং ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সদস্যবৃন্দ।
চর ঝাউকান্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান মৃধা (বদু) বলেন, “টানা বৃষ্টিতে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় আজ ৫৬টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা আরও অনেক বেশি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত আরও ত্রাণ পেলে বঞ্চিত পরিবারগুলোর মাঝেও তা বিতরণ করা সম্ভব হবে।”
বিতরণ করা প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেজে ছিল ১০ কেজি (৫ কেজির দুটি প্যাকেট) বিআর-২৯ চাল, ১ কেজি দেশি মসুর ডাল, ১ কেজি আয়োডিনযুক্ত লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১০০ গ্রাম মরিচের গুঁড়া, ২০০ গ্রাম হলুদের গুঁড়া এবং ১০০ গ্রাম ধনিয়ার গুঁড়া। প্রতিটি প্যাকেজের মোট নেট ওজন ছিল ১৪.৩৫ কেজি।
ত্রাণসামগ্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থবছর ২০২৪-২০২৫-এর বরাদ্দ থেকে সরবরাহ করা হয়। এসব প্যাকেজ এসিআই ফুডস লিমিটেড প্রস্তুত ও সরবরাহ করেছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চরাঞ্চলের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন দ্রুত অতিরিক্ত ত্রাণ বরাদ্দের ব্যবস্থা করবে, যাতে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

