টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটিতে ভয়াবহ দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। এরই মধ্যে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্যে জানা যায়, জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৯৮টি পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ২০০টিরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসাবে, বিলাইছড়িতে সবচেয়ে বেশি ৩৭টি স্থানে পাহাড়ধস হয়েছে। এছাড়া কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১১টি, বাঘাইছড়িতে ৩টি এবং নানিয়ারচরে ২টি স্থানে পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ১৬৬ জন মানুষ অবস্থান করছেন। আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলোর জন্য খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
রাঙামাটি পৌরসভা, সদর উপজেলা, কাপ্তাই, কাউখালী, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, রাজস্থলী, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গত মানুষ অবস্থান করছেন। তাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো একযোগে কাজ করছে।
অন্যদিকে, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে খাগড়াছড়ির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. তারেক সেকান্দার বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পুলিশ কাজ করছে।
এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভূঁইয়া জানান, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে নতুন নতুন স্থানে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তাই কোনো ধরনের প্রাণহানি এড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

