যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি বা অন্তর্বর্তী সমঝোতা কার্যত শেষ হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ওই সমঝোতার আর কোনো কার্যকারিতা নেই এবং তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর কাছে “সময়ের অপচয়” বলে মনে হচ্ছে।
বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমার কাছে যুদ্ধবিরতি শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই না।” একই সঙ্গে তিনি ইরানের নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করেন, যদিও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকরা চাইলে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেন।
এই উত্তেজনার সূচনা হয় হরমুজ প্রণালিতে কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, এসব হামলার জন্য ইরান দায়ী। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার স্থাপনা এবং সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখায়। দেশটি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কতা জারি করা হয় এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথাও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে।
এদিকে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া অস্থায়ী মার্কিন অনুমোদন (লাইসেন্স) বাতিল করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
ইরান অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নিজেই শান্তি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। তেহরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির শর্ত উপেক্ষা করে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রই উত্তেজনা পুনরায় উসকে দিয়েছে বলে অভিযোগ দেশটির।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে সংঘাত বাড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
এখনও উভয় পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তবে ট্রাম্পের “যুদ্ধবিরতি শেষ” মন্তব্য এবং নতুন সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল নতুন করে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ছে।

