ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার নাটকীয় ৩-২ ব্যবধানের জয় এখন শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচের ফল নয়। ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে রেফারিং, ভিএআরের ব্যবহার এবং পুরো টুর্নামেন্টের নিরপেক্ষতা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, সাবেক ফুটবলার, বিশ্লেষক এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অসংখ্য সমর্থক প্রশ্ন তুলছেন, বিশ্বকাপে কি সব দলের জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে?
ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখায় মিশর। ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মোস্তফা জিকো ব্যবধান ২-০ করেন। সেই সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিদায় নিশ্চিত।কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি থেকেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ব্যবধান কমানোর পর লিওনেল মেসি সমতা ফেরান। এরপর যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি বিতর্কিত ভিএআর সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয়ার্ধে মোস্তফা জিকো আরেকটি গোল করলেও দীর্ঘ ভিডিও পর্যালোচনার পর সেটি বাতিল করা হয়। রেফারির দাবি, গোল হওয়ার আগে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারের ওপর ফাউল হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সমর্থকেরা।
এর কিছুক্ষণ পর আরও বড় বিতর্ক মিশরের দাবি, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি বক্সে মোহাম্মদ সালাহ ফাউলের শিকার হলেও রেফারি পেনাল্টি দেননি। আশ্চর্যের বিষয়, সেই ঘটনায় ভিএআরও রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়নি। এরপরই আর্জেন্টিনা পাল্টা আক্রমণে গিয়ে জয়সূচক গোল করে। এই ঘটনাই ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্তে পরিণত হয়েছে।
ম্যাচ শেষে মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। হয়তো তারা চেয়েছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্টে রেখেই দিতে।” এমনকি তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, তিনি আর এই বিশ্বকাপ দেখতে চান না।
শুধু মিশর নয়, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ। একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন তুলেছে, ভিএআরের সিদ্ধান্তগুলো কি ধারাবাহিক ছিল? কেন একটি ঘটনায় দীর্ঘ পর্যালোচনা হলেও আরেকটি সম্ভাব্য পেনাল্টির ঘটনায় প্রযুক্তি কার্যত নীরব ছিল? এই অসঙ্গতিই বিশ্বকাপের রেফারিংয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া। অনেক সমর্থক দাবি করেছেন, একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত ফুটবলের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। যদিও এখন পর্যন্ত ফিফা রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা শিবিরের দাবি, তারা কঠিন পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় পেয়েছে এবং সেটিই ম্যাচের সবচেয়ে বড় গল্প। কোচ ও খেলোয়াড়রা বিতর্কে না গিয়ে দলের মানসিক দৃঢ়তা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের প্রশংসা করেছেন।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার—আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও এই ম্যাচের আলোচনা কেবল স্কোরলাইনে সীমাবদ্ধ নেই। ভিএআরের ব্যবহার, রেফারিংয়ের ধারাবাহিকতা এবং বিশ্বকাপের নিরপেক্ষতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আগামী দিনগুলোতেও আলোচনার কেন্দ্রেই থাকবে।

