যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি উদ্যোগে ভূমিকা রাখার পর এবার উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে পাকিস্তান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ লিবিয়ার পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃত্বের মধ্যে নীরবে সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে পাকিস্তানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। ২০১১ সালে সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া কার্যত বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংকট নিরসনে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের এই মধ্যস্থতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র অবগত রয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবও এ উদ্যোগকে সমর্থন দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। জানা গেছে, লিবিয়ার উভয় পক্ষই গত বছরের শেষ দিকে পাকিস্তানের সহায়তা চাওয়ার পর আলোচনা প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হয়।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় ৩৬ মাসের একটি অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষমতা ভাগাভাগির কাঠামো গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে পশ্চিমাঞ্চলভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দ্বিবাহ তার দায়িত্বে বহাল থাকবেন। অন্যদিকে, পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার সাদ্দাম হাফতারকে প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান করার প্রস্তাব রয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিবিয়ার গুরুত্বপূর্ণ তেলক্ষেত্র ও কৌশলগত অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণে থাকা খলিফা হাফতারকে বাজেট-সংক্রান্ত কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে পাকিস্তানের একটি সূত্র জানিয়েছে, পুরো পরিকল্পনাটি এখনো আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে এবং কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির রাওয়ালপিন্ডিতে সাদ্দাম হাফতারের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন পর সাদ্দাম হাফতার যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, লিবিয়ার রাজনৈতিক ঐক্য প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে ওয়াশিংটন সমর্থন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, মিশর বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী শক্তির তুলনায় পাকিস্তানের ভূমিকা তুলনামূলক সীমিত হলেও দেশটির সঙ্গে লিবিয়ার উভয় পক্ষেরই কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণেই মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে ইসলামাবাদ একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে।
এদিকে, পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তুরস্ক ও কাতারও এই সংলাপ এগিয়ে নিতে ইসলামাবাদকে উৎসাহ দিচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, শুধু কোনো চুক্তি স্বাক্ষর হলেই লিবিয়ায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অতীতের বিভিন্ন শান্তি উদ্যোগও শেষ পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারেনি।
এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট পক্ষ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, তুরস্ক ও কাতারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি।

