যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের আর কোনো শক্তিশালী মিত্র নেই—মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স-এর এমন মন্তব্য দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ভারতও ইসরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু এবং তেল আবিব দীর্ঘদিন ধরে নয়াদিল্লির কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়ে আসছে।
রোববার ফক্স নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার বাইরেও ইসরায়েলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার রয়েছে। ভারতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমাদের আরও বন্ধু আছে, যেমন ভারত। প্রায় ১৪০ কোটি মানুষের এই দেশ থেকে আমরা অসাধারণ সমর্থন পেয়ে থাকি।”
গাজা, ইরান ও লেবাননকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে থাকা নেতানিয়াহু বলেন, তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সকে সম্মান করেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে ইসরায়েলের “সবচেয়ে বড় বন্ধু” মনে করেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভ্যান্সের সব বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত নন এবং সে কারণেই ভারতের সমর্থনের বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন হয়েছে।
এর আগে হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স মন্তব্য করেছিলেন, ইসরায়েলের উচিত নয় তাদের “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধে জড়ানো। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে ভারতীয়দের কাছ থেকে তিনি ব্যাপক সমর্থন পান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অনেক দেশে ইসরায়েলবিরোধী ও ইহুদিবিরোধী প্রচারণা বাড়লেও বাস্তবে বিভিন্ন দেশের নেতারা ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর হুমকি থেকে রক্ষার জন্য কিছু খ্রিস্টান গ্রাম ইসরায়েলের সহযোগিতা চেয়েছে এবং সেই কারণেই সেনারা সেখানে অবস্থান করছে। তবে লেবাননের স্থানীয় প্রতিনিধিরা এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।

