সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি নিয়ে দীর্ঘ নয় বছরের আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের ফলে সারা দেশে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, সরকারের করা আপিল গ্রহণ করায় প্রায় ৩৬ হাজার ২৩৫টি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা যাবে। পাশাপাশি এসব পদে পদোন্নতির কারণে সহকারী শিক্ষক পদে যে শূন্যতা সৃষ্টি হবে, তা মিলিয়ে প্রায় ৩৮ হাজার ৪৪৩টি পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি জানান, ২০১৭ সালে কয়েকজন শিক্ষক জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসংক্রান্ত বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে রিট করেন। পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার আপিল করলে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি কার্যক্রম স্থগিত ছিল। সর্বশেষ আপিল বিভাগের রায়ে সেই স্থবিরতা দূর হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় দেশের ৬৫ হাজার ৫০০ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়ে যায়। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি লাখো শিক্ষার্থীর পাঠদানও ব্যাহত হয়।
তিনি আরও জানান, আদালতের রায় পাওয়ার পরই বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রয়োজনীয় চাহিদাপত্র পাঠানো হচ্ছে। বিশেষ ব্যবস্থায় পদোন্নতি ও নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে এবং ৮০ শতাংশ সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। দীর্ঘদিন মামলা চলার কারণে এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল।
এদিকে, চলমান ১৪ হাজার সহকারী শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, নিয়োগপ্রাপ্তদের দ্রুত দুই মাসের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষ করেই তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করবেন। পিটিআইয়ের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং সেশনজট এড়াতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, কয়েক মাসের প্রচেষ্টার পর এই আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন গতি সৃষ্টি হবে।

