সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বিপাকে পড়েন একটি কলেজের ৯ শিক্ষার্থী। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের হস্তক্ষেপে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অনুমতি নিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রের এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের টাকা জমা দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশপত্র সরবরাহ করেনি।
তারা জানান,পরীক্ষার কয়েক দিন আগে থেকে প্রবেশপত্রের জন্য কলেজে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষ শুধু সময়ক্ষেপণ করেছে। সর্বশেষ বুধবারও প্রবেশপত্র নিতে গেলে তাদের জানানো হয়, সেটি এখনো আসেনি। পরীক্ষার দিন সকাল ৮টায় প্রবেশপত্র দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছিল,কিন্তু সেদিনও তারা তা পাননি।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন; শারমিন আক্তার, মাসুমা আক্তার, তানিয়া আক্তার, আয়েশা আক্তার নাজমিন, দীপা কাহার, পল্লবী ঠাকুরিয়া, শ্রাবন্তী শীল এবং অনিয়মিত পরীক্ষার্থী বৃষ্টি আক্তার। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী,মোট ৯ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র পাওয়া যায়নি।
প্রবেশপত্র ছাড়া বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্তরা তাদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেন। এতে শিক্ষার্থীরা কান্নাকাটি ও হইচই শুরু করেন। খবর পেয়ে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান কেন্দ্রে গিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরে তিনি বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানান এবং সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
তানিয়া আক্তার বলেন,“রমজান মাসেই আমরা কলেজে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছি। বারবার যোগাযোগ করেও প্রবেশপত্র পাইনি। ইউএনও স্যারের হস্তক্ষেপে পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর আমরা পরীক্ষায় বসতে পেরেছি।”
শ্রাবন্তী শীল বলেন,“আমরা সাড়ে ১১টার দিকে পরীক্ষায় অংশ নিই। কিন্তু মাত্র ২০ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সময়ের অভাবে ঠিকমতো লিখতে পারিনি। এতে ফল খারাপ হলে দায় কে নেবে?”
দীপা কাহার বলেন,“কয়েক মাস আগে ফরম পূরণের টাকা দিয়েছি। প্রবেশপত্রের জন্য কয়েক দিন কলেজে গিয়েছি। প্রতিবারই আজ-কাল করে সময় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
অভিযোগের বিষয়ে শ্রীমঙ্গল রেসিডেন্সিয়াল মডেল গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কলেজের অধ্যক্ষ অসিত রঞ্জন পাল বলেন,“যে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আসেনি,বিষয়টি আগে আমার জানা ছিল না। আজ জানতে পেরেছি, তারা কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেবের কাছে ফরম পূরণের টাকা জমা দিয়েছিল। ইউএনও ও শিক্ষা বোর্ডের হস্তক্ষেপে তাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।”
ফরম পূরণের টাকা নেওয়ার পরও প্রবেশপত্র না পাওয়ার দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন,“কম্পিউটার অপারেটর অনিক দেব দায়ী। তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান হিসেবে আমারও দায়িত্ব রয়েছে।”
ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান বলেন,“খবর পেয়ে কেন্দ্রে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি। অসতর্কতার কারণে ৯ শিক্ষার্থীর প্রবেশপত্র আসেনি বলে জানা গেছে। পরে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।”
তিনি বলেন,“বোর্ডের অনুমতি ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

