অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর:
লোকসংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য ও প্রান্তিক গবেষকদের গবেষণাকর্মকে মূল্যায়ন এবং বিশ্বদরবারে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ। এ উপলক্ষে ৫ জুন রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের হলরুমে সংগঠনটির প্রথম বার্ষিক সম্মিলন ও জেলাভিত্তিক প্রচলিত লোকগান বিষয়ক পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মিলনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত লোকগবেষক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। পরে সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।
এসময় বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ পত্রিকার প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বঙ্গ রাখালের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষকদের মতবিনিময় পর্বে বিভিন্ন জেলার গবেষকরা নিজেদের গবেষণাকর্ম তুলে ধরেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।
এ পর্বে বক্তব্য দেন আব্দুল্লাহ আল আমীন, শিকদার ওয়ালিউজ্জামান, কমল হাসান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ জাহিদ হাসান, মেহাইমিনুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মসিউর রহমান, সুধান্য মণ্ডল, আবুল বাশার তালুকদার, আলী প্রয়াস, অ আ আবীর আকাশ, জাহিদ হোসেন বাবু, সরকার হুমায়ুন ও যাহিদ সুবহান।
পরবর্তী আলোচনা সভায় পার্থ তালুকদারের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা সদস্য ড. বিএম রেজাউল করিম, কবি নজমুল হেলাল, চন্দনকৃষ্ণ পাল, ম. পানাউল্লা, সৈয়দ রবিউল আলম, রাখাল বিশ্বাস ও অর্জুন বিশ্বাসসহ অন্যান্য অতিথিরা। বক্তারা বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করেন ড. অসীম সাহা। এ পর্বে ‘বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ তথ্যলিপি’ ভলিউম-১-এর আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি শামসুল আরেফীন ও সুমন বণিক।
অনুষ্ঠানে আগামী বছরের কর্মপরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক সুমন শিকদার। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি সাইফুল ইসলাম শাহীন লোকগবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনের উপদেষ্টা ও খ্যাতিমান শিল্পী অর্জুন বিশ্বাস এবং নিপা আহমেদ সারাহ্ সংগীত পরিবেশন করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে রয়েছে লোকঐতিহ্য, লোকজ জ্ঞান, গান, গল্প, প্রবাদ-প্রবচন, আচার-অনুষ্ঠান ও মৌখিক ইতিহাস। আধুনিক প্রযুক্তি, নগরায়ণ ও বিশ্বায়নের প্রভাবে এসব ঐতিহ্যের অনেক কিছুই হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ, গবেষণা ও প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদের মতো সংগঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা আরও বলেন, লোকগবেষণা শুধু অতীতকে জানার মাধ্যম নয়, বরং বর্তমান সমাজ ও মানুষের জীবনবোধকে বুঝতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দেশের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দিতে গবেষণাধর্মী কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
লোকঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ লোকগবেষণা পরিষদ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

