দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তির দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও ফের সংঘাতের পথে হাঁটল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মঙ্গলবার (২৬ মে) দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বন্দর আব্বাসের নিকটবর্তী এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। এমন এক সময়ে এই হামলা চালানো হলো যখন কাতারের দোহায় দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই হামলাটি ছিল মূলত ‘আত্মরক্ষামূলক’। তাদের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারস্য উপসাগরে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হামলাটি চালানো হয়েছে বন্দর আব্বাস শহরের কাছে, যা হরমুজ প্রণালীর প্রবেশদ্বারে অবস্থিত। বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহনের প্রধান এই রুটটি ইরান গত কয়েক মাস ধরে কার্যত বন্ধ করে রেখেছে। নতুন এই হামলার ফলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার যে আলোচনা চলছিল, তা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন দুই দেশের কর্মকর্তারা একটি খসড়া সমঝোতা স্মারক নিয়ে দরকষাকষি করছিলেন।
ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: সোমবার রাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের কাছে থাকা ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, নয়তো ইরানের মাটিতেই তা ধ্বংস করা হবে।
ইরানের অবস্থান: তেহরান অনেক বিষয়ে অগ্রগতির কথা স্বীকার করলেও জানিয়েছে যে, চুক্তি স্বাক্ষর এখনই আসন্ন—এমনটা বলা সম্ভব নয়।
নেতৃত্বের সংকট: সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ইসরায়েলি হামলায় আহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই অজ্ঞাত স্থানে থাকায় তার প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা আলোচনার গতি মন্থর করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল থেকে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন করা হচ্ছিল। কিন্তু মঙ্গলবারের এই আকস্মিক হামলা সেই শান্তি প্রক্রিয়াকে নড়বড়ে করে দিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন এই হামলা তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল হতে পারে, আবার এটি আলোচনাকে সম্পূর্ণ ভেস্তে দেওয়ার কারণও হতে পারে। এখন ইরান এই হামলার পাল্টা জবাব দেয় কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের বিশ্ববাজার ও তেলের দামের গতিপ্রকৃতি।

