দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, চুক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশ বিষয়ে দুই দেশ ইতিমধ্যে একমত পোষণ করেছে। এখন কেবল হাতেগোনা কয়েকটি অমীমাংসিত ও স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির সিংহভাগ বিষয়ে ঐকমত্য হলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ইউরেনিয়াম মজুত এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলো নিয়ে এখনো নিবিড় আলোচনা চলছে।
তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচকদের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি না করে ‘ধীরে-সুস্থে’ এগোনোর নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, তাড়াহুড়া না করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বজায় রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও মজবুত চুক্তি চূড়ান্ত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাব্য চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
ইরানের ওপর আরোপিত বেশ কিছু কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা। বিভিন্ন দেশে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে ফিরিয়ে দেওয়া। উভয় দেশের পক্ষ থেকে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা কমিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ।
খবরে জানানো হয়েছে, ইরানের প্রভাবশালী নেতা মোজতবা খামেনি নীতিগতভাবে এই চুক্তির কাঠামোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ইরানের নিজস্ব আইনি ও অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলেই যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান যুদ্ধাবস্থা ও অস্থিরতা অনেকটা প্রশমিত হবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি তেলের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর হবে।
পুরো বিশ্ব এখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছে। (বিস্তারিত আসছে…)

