রাজধানীর মিরপুরে সাত বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ চলছে। ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে সরকারের আশ্বাস সত্ত্বেও বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে জনমনে শঙ্কা ও অনাস্থা দেখা দিয়েছে।
অনেকে অতীতের আলোচিত মামলাগুলোর ধীরগতির বিচারপ্রক্রিয়ার উদাহরণ টেনে বলছেন, চূড়ান্ত রায় ও তার বাস্তবায়ন দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।
এ প্রসঙ্গে আলোচনায় উঠে এসেছে চাঁদপুরের আলোচিত ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর মামলা। অভিযোগ রয়েছে, একাধিক হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় নিম্ন আদালত ও হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও আপিল বিভাগের শুনানি বিলম্বিত হওয়ায় চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব মামলায় দীর্ঘসূত্রতা, নথিপত্র প্রস্তুত ও আপিল প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে বিচার কার্যকর হতে দেরি হয়। ফলে স্পর্শকাতর অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত মামলায় আপিল বিভাগের শুনানি ও নথি প্রস্তুতির জটিলতা থাকায় সময় বেশি লাগে। তবে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
মানবাধিকারকর্মীরা মনে করছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধের মামলায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিচারিক প্রক্রিয়ার কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন, যাতে রামিসা আক্তারের মতো ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর বিচার নিশ্চিত করা যায়।

