মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করার পর তেহরান থেকেও ইতিবাচক বার্তা পাওয়া গেছে। ইরানের উচ্চপর্যায়ের তিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনঃস্থাপনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা কাঠামোর বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দেশটি।
কূটনৈতিক আলোচনার সংবেদনশীলতার কারণে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি।
রোববার (২৪ মে) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদ বলেন, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইরান কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গত মাসে কার্যকর হওয়া অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির পর ইরানি কর্মকর্তাদের এই অবস্থান দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করছে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ সুগম করতে পারে।
আলোচনায় থাকা খসড়া চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে কোনো অতিরিক্ত শুল্ক বা ফি আরোপ করবে না ইরান। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কার্যকর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। এছাড়া চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুমকির মধ্যেও ইরান একদিকে সামরিক প্রস্তুতি অব্যাহত রাখে, অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করে। সর্বশেষ পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথই আপাতত প্রাধান্য পাচ্ছে।
তবে সম্ভাব্য এই সমঝোতা কেবল যুদ্ধবিরতি ও সামুদ্রিক পথ উন্মুক্ত রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও সময়ের হাতেই রয়ে গেছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস।

