গাজা অভিমুখী মানবিক সহায়তা বহর ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ থেকে আটক সমাজকর্মীদের প্রতি ইসরাইলের অতিডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গ্যভিরের আচরণ ঘিরে বিশ্বজুড়ে তীব্র কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন দেশের অভিযোগ, ওই আচরণ মানবিক মর্যাদার পরিপন্থী এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।
বেন-গ্যভিরের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সশস্ত্র ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী আটক কর্মীদের হাত বাঁধা অবস্থায় মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে রাখতে বাধ্য করছে—যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একাধিক দেশ ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ব্যাখ্যা দাবি করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং এই আচরণকে ‘অবমাননাকর’ উল্লেখ করে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করার ঘোষণা দেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান এবং ইতালি ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো জানান, ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসও একই পদক্ষেপ নেয় বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, তারা ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করবে। পাশাপাশি কানাডা ও বেলজিয়ামও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
এছাড়া স্পেন, পোল্যান্ড, জার্মানি, গ্রিস, সাইপ্রাস, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও তুরস্কসহ একাধিক দেশ ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

