দেওয়ান মাসুকুর রহমান,
হামে শিশু টিকা পাচ্ছে না, মৃত্যু ৪০০ ছাড়ালো, হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামাও, স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করো, দায়ীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন সমাবেশ করবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
“দুনিয়ার মজদুর এক হও।”— এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ১৬ মে ২০২৬ শনিবার সকাল ১১টায় | জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ কর্তৃক এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কমরেড নূর আহমেদ বকুল এক বিবৃতিতে আন্দোলনের এ কর্মসূচি সফল করার আহবান জানিয়েছেন।
নেতৃবৃন্দ এই মৃত্যুকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে হাম পরিস্থিতিকে অবিলম্বে ‘মহামারি’ ঘোষণা, জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন, টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং চিকিৎসা খাতকে সম্পূর্ণ সরকারীকরণের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, “হামে আক্রান্ত হয়ে দেশে সাড়ে চারশ’র বেশি শিশুর মৃত্যু কোনো বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড। গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে টিকাদান কর্মসূচি স্থগিত করার মতো অপরিকল্পিত ও হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলেই আজ শত শত পরিবার সন্তান হারানোর বেদনা বহন করছে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় অবহেলা, টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন এবং শিশুস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার না দেওয়ার কারণেই পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যে রাষ্ট্র তার শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, সেই রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহির আওতায় আনতেই হবে।
তিনি আরও বলেন, “এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচার নিশ্চিত করতেই হবে। একই সঙ্গে হামকে অবিলম্বে মহামারি ঘোষণা করে জাতীয় জরুরি স্বাস্থ্য পরিকল্পনা কার্যকর করতে হবে।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পক্ষ থেকে নিম্নোক্ত দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো—
১. হামে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামাও, দেশে চলমান হাম পরিস্থিতিকে অবিলম্বে ‘মহামারি’ ঘোষণা করতে হবে;
২. আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে;
৩. স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করো। হামে ৪০০-এর অধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে;
৪. টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারি বরাদ্দ বাড়িয়ে চিকিৎসা খাতকে সম্পূর্ণ সরকারীকরণের আওতায় আনতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সরকারের নীতিগত ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। শিশুস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে অবহেলার পরিণতি এখন পুরো দেশ দেখছে।
নেতৃবৃন্দ বলেছেন, “বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বিবৃতি দিলেই চলবে না। দ্রুত ফিল্ড হাসপাতাল স্থাপন, বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং আগামী জাতীয় বাজেটে শিশুস্বাস্থ্য খাতে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
তারা আরও বলেছেন, “জনস্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অবহেলা করে উন্নয়নের গল্প শোনানো হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে শিশুদের জীবন সুরক্ষিত নয়। এই সংকট শুধু স্বাস্থ্য খাতের নয়, এটি রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণেরও সংকট।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার দুর্বলতা এবং জনসচেতনতার ঘাটতির কারণে হাম সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষকদের মতে, হাম প্রতিরোধে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ, টিকাদান কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।

