নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
ইসলাম শুধু কোন খাবার হালাল আর কোনটি হারাম তা নির্ধারণ করেনি; বরং খাবারের পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা ও উত্তম রুচির প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। মহান আল্লাহ মানুষের জন্য পবিত্র ও ভালো খাদ্য বৈধ করেছেন এবং অপবিত্র জিনিস থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিশেষ করে কুরবানির সময় হালাল পশুর কোন অংশ খাওয়া বৈধ, কোনটি অপছন্দনীয় বা নিষিদ্ধ— এ বিষয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা যায়। ইসলামী শরিয়তের আলোকে এ বিষয়ে রয়েছে সুস্পষ্ট নির্দেশনা।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন,
> “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে মৃত প্রাণী, রক্ত এবং শূকরের মাংস।
> (সুরা আল-মায়িদা: ৩)
আরও বলা হয়েছে,
> “বলুন, আমার প্রতি যে ওহি নাজিল হয়েছে তাতে আমি কোনো খাদ্য হারাম পাই না, তবে মৃত প্রাণী অথবা প্রবাহিত রক্ত হলে তা হারাম।
> (সুরা আল-আনআম: ১৪৫)
এ থেকে স্পষ্ট, হালাল প্রাণীর প্রবাহিত রক্ত খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম।
হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) হালাল পশুর কিছু অংশ খেতে অপছন্দ করতেন। তাবেয়ি হজরত মুজাহিদ (রহ.) বর্ণনা করেন,
> “রাসুলুল্লাহ (সা.) বকরির সাতটি জিনিস খাওয়া অপছন্দ করতেন— প্রবাহিত রক্ত, পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর পশুর গুপ্তাঙ্গ ও অণ্ডকোষ।
> (বায়হাকি)
ইসলামী শরিয়তের আলোকে যেসব অংশ না খাওয়াই উত্তম,
* প্রবাহিত রক্ত
* অণ্ডকোষ
* মাংসগ্রন্থি
* মূত্রথলি
* পিত্ত
* নর ও মাদা পশুর গুপ্তাঙ্গ
আলেমদের মতে, রক্ত ছাড়া হালাল পশুর অন্য অংশগুলো সরাসরি হারাম নয়। তবে নবীজি (সা.) যেহেতু এসব অংশ অপছন্দ করতেন, তাই সেগুলো থেকে বিরত থাকাকে উত্তম ও তাকওয়ার পরিচায়ক হিসেবে দেখা হয়।
ইসলাম মানুষকে শুধু হালাল খাদ্য গ্রহণের নির্দেশই দেয় না, বরং পরিচ্ছন্নতা, শালীনতা ও সুস্থ রুচির শিক্ষাও দেয়। তাই কুরবানির সময় পশু জবাই ও মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে এসব মাসআলা জানা ও মেনে চলা একজন সচেতন মুসলমানের দায়িত্ব।

