রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁন মিয়া হাউজিং এলাকায় এক কলেজছাত্রকে ছুরি ঠেকিয়ে মোবাইল, টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা না নিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।
সোমবার (১১ মে) বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিটে চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের ১ নম্বর গেইটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী সিদ্দিক শ্রেষ্ঠ ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পরিবারের অভিযোগ, রিকশা চাঁন মিয়া হাউজিং এলাকায় পৌঁছালে কালো প্যান্ট ও সাদা শার্ট পরা এক ব্যক্তি হঠাৎ রিকশার সামনে এসে দাঁড়ায়। এতে রিকশার চাকা তার গায়ে লাগলে তিনি যাত্রীকে গালাগালি শুরু করেন।
এ সময় আশপাশে আগে থেকেই অবস্থান করা মুখে মাস্ক পরা আরও চারজন সেখানে যোগ দেয়। তাদের মধ্যে দুইজন রিকশায় উঠে ধারালো ছুরি দেখিয়ে যাত্রীকে ভয় দেখায় এবং তার মোবাইল ফোন, টাকা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে এনআইডি কার্ড, ব্যাংকের এটিএম কার্ডসহ সবকিছু নিয়ে নেয়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৩৭ মিনিট ৪ সেকেন্ড থেকে ৫টা ৩৮ মিনিট ২১ সেকেন্ডের মধ্যেই পুরো ঘটনাটি ঘটে। এমনকি ছিনতাইকারীরা মোবাইলের পাসওয়ার্ডও জেনে নেয়।
ভুক্তভোগীর বাবা নূরে আলম সিদ্দিক বলেন, ‘ছিনতাইয়ের পর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মোবাইল হারানোর জিডি করার পরামর্শ দেয়।
তার দাবি, তার ছেলের একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স, এয়ারবাডস, মানিব্যাগ, এনআইডি ও ব্যাংক কার্ড ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে তার ছেলে মানসিকভাবে আতঙ্কে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘দে ধাক্কা’ নামে একটি কিশোর গ্যাং এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদপুর বাঁশবাড়ি এলাকার শীর্ষ ছিনতাইকারী রাব্বি ওরফে ‘চৌদ্দ রাব্বি’ এবং ‘আগুন’ ওরফে ‘ধাক্কা আগুন’-এর নেতৃত্বে একটি চক্র বাঁশবাড়ি, বাসস্ট্যান্ড, চাঁন মিয়া হাউজিং ও শিয়া মসজিদ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেসবাহ উদ্দিন বলেন, ‘অভিযুক্তদের শনাক্তের কাজ চলছে এবং মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগী থানায় আসার পর মামলা করতে বললেও তিনি জিডি করতে চান, তাই জিডি নেওয়া হয়েছে।

