দিনাজপুর প্রতিনিধি:
মহাসড়কে অবৈধ টোল ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদে দিনাজপুরে ট্রাক শ্রমিক ও মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা সড়ক অবরোধে প্রায় চার ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে জেলার প্রধান প্রধান সড়ক।
পরে প্রশাসনের আশ্বাস ও আলোচনার পর বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলমের মধ্যস্থতায় পৌর প্রশাসন ও শ্রমিক-মালিক ঐক্য পরিষদের নেতাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় পৌর এলাকার ভেতরে চলমান টোল আদায় বন্ধের আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিত করেন।
রবিবার সকাল ৭টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কসহ জেলার অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শুরু হওয়া অবরোধ দ্রুত ফুলহাট, দশমাইল মহাসড়ক, বালুয়াডাঙ্গা-বিরল সড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছড়িয়ে পড়ে। এতে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী, শিক্ষার্থী ও রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
আন্দোলনকারী শ্রমিক নেতা মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে অবৈধভাবে টোল ও চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং মালিক-শ্রমিকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একাধিকবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা সড়কে নেমেছেন বলে জানান।
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ, জেলা ট্রাক, ট্যাংকলরী, কাভার্ডভ্যান ও ট্রাক্টর শ্রমিক ইউনিয়ন উপকমিটি শাখার সভাপতি শাহ আলম: দিনাজপুর শহরে প্রবেশ করলেই আমাদের ট্রাক, ট্রাক্টর চালাক চালকদের নিকট থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয় না দিলে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার প্রশাসনের অবগত করলেও কোনো কর্ণপাত করে নাই।
দিনাজপুর ট্রাক শ্রমিক মালিক ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাদাকাতুল বাবি আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন,
“পৌরসভার মধ্যে চলমান টোল আদায় আপাতত বন্ধ থাকবে। স্থায়ী সমাধানের জন্য আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই আবার বসা হবে। প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিয়েছে, তাই সাময়িকভাবে আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। তবে সমাধান না হলে আবারও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এদিকে দিনাজপুর পৌরসভার প্রশাসক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, টোল আদায়ের জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল খাস কালেকশনের জন্য। যেহেতু এ নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে, সেহেতু শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। অবৈধভাবে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না।
আন্দোলনের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ছিল চরমে। দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী রাবেয়া আক্তার বলেন,
“সকালে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিলাম। রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয়েছে। সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় পড়েছিলাম।
অপর শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, সব যানবাহন বন্ধ থাকায় কয়েক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়েছে। হঠাৎ এমন অবরোধে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে।
ঢাকাগামী বাসের যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, সকালে বাসে উঠলেও দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। ছোট শিশু ও নারী যাত্রীরা বেশি কষ্ট পেয়েছেন। প্রশাসনের আগে থেকেই বিষয়টি সমাধান করা উচিত ছিল।
রংপুর থেকে আসা ট্রাকচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গায় টাকা দিতে হয়। এতে মালিক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, শ্রমিকদের ওপরও চাপ পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নেমেছি।
অবরোধ প্রত্যাহারের পর দুপুর থেকে ধীরে ধীরে জেলার সব রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে শ্রমিক নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না আবার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

