আব্দুস সালাম মোল্লা, স্টাফ রিপোর্টার :
চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। অন্যদিকে একই ঘটনাকে ঘিরে ভিন্নমুখী বক্তব্য দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এক নেতা, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট থেকে ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শহর ক্যাম্পাসে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়। কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. পারভেজ খান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক তামজিদুল হাসান কায়েস, মহানগর ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুনিম হাসান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আরফিন কায়েস, কলেজ শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি এম. মামুনুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাহিমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, এই হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এতে নিরীহ শিক্ষার্থীরাও আহত হয়েছেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, “শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ছাত্রদল আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
তবে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সাবেক ফরিদপুর জেলা আমীর প্রফেসর আবদুত তাওয়াব। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, চট্টগ্রাম সিটি কলেজে শিবির ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ‘ছাত্রদল নামধারী সন্ত্রাসীরা’।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং শিক্ষাঙ্গনে আধিপত্য বিস্তারের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। তিনি বলেন, “নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে কোনো সংগঠন তাদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কখনোই সন্ত্রাসের জায়গা হতে পারে না।”
প্রফেসর তাওয়াব আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ভূমিকা না থাকা উদ্বেগজনক। তার মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। একদিকে ছাত্রদল নিজেদের হামলার শিকার দাবি করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে, অন্যদিকে জামায়াত নেতার পক্ষ থেকে উল্টো অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক সহিংসতা নতুন কিছু নয়, তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করে। তারা মনে করেন, দায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনা গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব।
এদিকে এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সার্বিকভাবে চট্টগ্রাম ও ফরিদপুর সহ বাংলাদেশের প্রায় —সব জায়গাতেই শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল চাইছে, দ্রুত এই উত্তেজনা প্রশমিত করে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রমে ফিরে আসুক প্রতিষ্ঠানগুলো।

