সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে এবারের বোরো মৌসুমে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা ও সংকট। স্থানীয়ভাবে একে বলা হচ্ছে “নয়ন ভাগা” বৈশাখ—অর্থাৎ শুধু চোখে দেখা, কিন্তু লাভ নেই।
স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে নিচু জমির ধান তলিয়ে যাওয়া, হারভেস্টার সংকট, শ্রমিকের অভাব এবং মজুরি বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে ধান কাটার খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।
একজন কৃষকের হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ৩২ শতক জমির ধান উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু সেই জমিতে ফলন মিলছে ১৫ থেকে ২০ মণ ধান। অথচ খোলা বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়, যেখানে উৎপাদন খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১০০০ টাকা।
ফলে প্রতি মৌসুমেই লোকসানে পড়ছেন কৃষকরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে আগাম ধান বিক্রি করছেন, কেউ আবার জমিতেই পাকা ধান ফেলে রাখছেন অর্থের অভাবে।
শ্রমিক সংকটও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বর্তমানে একজন কৃষি শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। হারভেস্টার মেশিনও পানির কারণে অনেক জমিতে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ধানের দাম থাকলেও বাস্তবে খোলা বাজারে সেই দাম মিলছে না। ফলে তারা দেনার বোঝায় চাপা পড়ছেন এবং ভবিষ্যতে ধান চাষ থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।
স্থানীয় কৃষকরা দ্রুত সরকারিভাবে ন্যায্যমূল্যে ধান সংগ্রহ, ভেজা ধান সংগ্রহের ব্যবস্থা এবং হাওর অঞ্চলে বিশেষ সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

