মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগবালাই বেড়েছে। গত কয়েক দিনে শিশু ও বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ডায়রিয়া ও পেটের সমস্যাজনিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ১৫ দিনে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে অন্তঃবিভাগে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া পেটব্যথা, বমি, ঠান্ডা-কাশি ও জ্বরসহ বিভিন্ন উপসর্গে দুই শতাধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। একই সময়ে জরুরি ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ।
চিকিৎসকেরা বলছেন, আকস্মিক আবহাওয়া পরিবর্তন ও তীব্র গরম মানবদেহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
উপজেলার শীদলাই গ্রামের আট মাস বয়সী শিশু আলী নুর তিন দিন ধরে ডায়রিয়ায় ভুগছে। তার মা বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
একইভাবে তিন বছর বয়সী মিম চার-পাঁচ দিন ধরে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার বাবা মনিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকেরা ভর্তি রাখার পরামর্শ দেন। বর্তমানে শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়েছে।
চার বছর বয়সী ফাতেমার মা খাদিজা আক্তার বলেন, হঠাৎ বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখন শিশুটি কিছুটা সুস্থ।
এদিকে, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে উপজেলার পোমকাড়া এলাকার ৬৫ বছর বয়সী আলেয়া খাতুন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বজনেরা জানান, দুই দিন অসুস্থ থাকার পর তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, তীব্র গরমের কারণে ডায়রিয়া ও হাম-ফক্সের প্রকোপ কিছুটা বেড়েছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দূষিত পানি পান, বাসি বা খোলা খাবার খাওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে এসব রোগ ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিরাপদ পানি পান, খাবারের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি খাবার এড়িয়ে চলা জরুরি। আক্রান্ত হলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে এবং রোগীকে পর্যাপ্ত স্যালাইন পান করাতে হবে।

