মোহাম্মদ আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি;
বান্দরবানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে অপহৃত ছয় রাবার শ্রমিককে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়েছে।
বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে অজ্ঞাত সশস্ত্র গ্রুপের হাতে অপহৃত ৬ জন রাবার শ্রমিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বান্দরবান সেনা জোন (২৮ ই বেঙ্গল) দ্রুত ও চৌকস অভিযানের ফলে অপহৃতদের নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।অপহরণের পর থেকে বান্দরবান সেনা জোনের বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য গত ২৩ এপ্রিল হতে ২৪ এপ্রিল ভোর ৫ টা পর্যন্ত সম্ভাব্য সকল অবস্থানে ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আজ ২৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ ভোরে অভিযান পরিচালনাকালে অপহৃত শ্রমিকদের যে পাহাড়ে আটক করে রাখা হয়েছিল, সেনাবাহিনীর সদস্যরা উক্ত পাহাড়ের নিকটবর্তী হলে উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা অপহৃত ব্যক্তিদের সেখানে রেখেই দ্রুত পলায়ন করে। এরপর বান্দরবান সেনা জোন এর সদস্যরা শ্রমিকদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে।
উক্ত অভিযানে ম্যাংতাং ম্রো(৩০), পিতা: পাড়াও ম্রো, গ্রাম: লাকড়ি পাড়া, টংকাবতী নামে একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কে আটক করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী কর্তৃক পুলিশের নিকট সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উদ্ধারকৃত শ্রমিকরা হলেন—মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লা এবং মো. রমিত।
উদ্ধারের পর প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
ওই ঘটনার পর টংকাবতী ইউপি চেয়ারম্যান মায়াং ম্রো প্রদীপ জানিয়েছিলেন, রাতে ছয় রাবার শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বান্দরবান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ সরদার জানিয়েছিলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশের একটি দল গঠন করে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর অভিযানে তারা উদ্ধার হলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী থেকেও তিন রাবার শ্রমিককে অপহরণ করেছিল সন্ত্রাসীরা। পরে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

