কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা একাধিক ফৌজদারি মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকা সত্ত্বেও অপরাধ কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আদালত ও পুলিশ প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার বাদী পেশাজীবী ও জাতীয় অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, তার দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ইং )–এ নামীয় ও অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না করা এবং সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধের নির্দেশ দেন কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, দস্যুতা সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২; তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫)–তেও আসামিরা পলাতক রয়েছে এবং এখনো কোনো মালামাল উদ্ধার হয়নি। দুটি মামলাই আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হওয়ায় দ্রুত গ্রেপ্তার ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের দাবি জানিয়েছেন বাদী।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টারও অভিযোগ আমলে নিয়েছে। আইজিপি’র অভিযোগ সেল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশ সুপার কুমিল্লা ২৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে নির্দেশনা গ্রহণ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মারফত কোতোয়ালি থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বাদীর অভিযোগ, আসামিরা বিভিন্ন ছদ্মবেশে পুনরায় অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করছে, যার ফলে তিনি ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। দ্রুত গ্রেপ্তার ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

