বাবার ভালোবাসার কোনো সীমানা নেই, আর সেই ভালোবাসার টানেই এক অভাবনীয় নজির গড়লেন শেখ ফুল মিয়া। হাতে পর্যাপ্ত টাকা নেই, নেই দামি গাড়িতে চড়ার সাধ্য; কিন্তু আছে মেয়ের কাছে পৌঁছানোর তীব্র ব্যাকুলতা। আর সেই ব্যাকুলতা থেকেই নিজের মালবাহী ভ্যানটি নিয়ে ১১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে রওনা হয়েছেন এক বৃদ্ধ বাবা।
ঘটনাটি রাজধানীর কেরানীগঞ্জের। শেখ ফুল মিয়া পেশায় একজন ভ্যানচালক। কিশোরগঞ্জে থাকা তাঁর অন্তঃসত্ত্বা মেয়েকে দেখার ভীষণ ইচ্ছা ছিল তাঁর। কিন্তু পকেটের অবস্থা ছিল সায়রশূণ্য। মাস শেষে ৫ হাজার টাকা ঘরভাড়া দেওয়ার পর হাতে যা ছিল, তাতে কোনো যাত্রীবাহী বাস বা রিজার্ভ করা গাড়িতে করে পুরো পরিবার নিয়ে কিশোরগঞ্জ যাওয়া অসম্ভব ছিল।
কিন্তু বাবার কাছে কোনো অভাবই অজুহাত হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজের উপার্জনের একমাত্র সম্বল ভ্যানগাড়িটিকেই বানিয়ে ফেললেন সফরের সঙ্গী। কেরানীগঞ্জ থেকে ভ্যান চালিয়েই তিনি সপরিবারে রওনা হলেন ১১৫ কিলোমিটার দূরের গন্তব্য কিশোরগঞ্জের উদ্দেশ্যে।
রাস্তার ধুলোবালি আর রোদের তাপ উপেক্ষা করে প্যাডেল ঘুরিয়ে চলেছেন তিনি। লক্ষ্য একটাই—যেকোনো উপায়ে মেয়ের পাশে দাঁড়ানো। পথে যাঁরাই এই দৃশ্য দেখেছেন, তাঁরাই অবাক হয়েছেন এক বাবার এমন অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখে।
বাবার ভালোবাসা অনেক সময় প্রকাশ পায় না চড়া গলায় কিংবা দামী উপহারে। শেখ ফুল মিয়ার মতো বাবারা মুখে কিছু না বলেও বুঝিয়ে দেন, সন্তানের জন্য তাঁরা হাসিমুখে যেকোনো বন্ধুর পথ পাড়ি দিতে পারেন। ১১৫ কিলোমিটারের এই দীর্ঘ পথ কেবল দূরত্বের নয়, বরং এক বাবার নিঃস্বার্থ ত্যাগের এক অনন্য উপাখ্যান।

