মো:ইলিয়াস সানি, তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ালিয়া গ্রামের পাটওয়ারী কান্দির অন্তত ২০টি পরিবার টানা ৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বৈদ্যুতিক লাইন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকে সংযোগ পুনঃস্থাপন না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের এসব পরিবার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নতুন শিকদার বাড়ি, তেলি বাড়িসহ আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই রুটের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের সুবিধা ভোগ করে আসছিলেন। গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড়ে রাস্তার পাশের একটি গাছ বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে লাইন ছিঁড়ে যায়। পরে এলাকাবাসী বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সংযোগ পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেন।
কিন্তু একই এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন তার বসতবাড়ির ওপর দিয়ে পুনরায় বিদ্যুৎ লাইন টানতে আপত্তি জানান। এতে নিরাপত্তাজনিত কারণে পল্লী বিদ্যুতের কর্মীরা সংযোগ পুনঃস্থাপন না করেই ফিরে যান।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জয়নাল আবেদীনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনার মাধ্যমে মানবিক দিক বিবেচনায় সংযোগ চালুর অনুরোধ জানালেও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বনি আমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিকল্প পথে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপনের নির্দেশ দেন। তিনি জানান, নতুন সংযোগের জন্য প্রয়োজনীয় দুটি খুঁটির মধ্যে একটি নিম্নআয়ের গ্রাহকদের জন্য বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন পল্লী বিদ্যুতের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার হামিদুর রহমান বলেন, বিদ্যমান লাইনের নিচে অনুমতি ছাড়া বসতঘর নির্মাণ করায় আগের রুটে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প পথে নতুন খুঁটি ও অন্যান্য সরঞ্জাম স্থাপন করে সংযোগ চালু করতে হবে। নির্ধারিত ব্যয় জমা দিলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
তবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, বিকল্প সংযোগ স্থাপনে প্রায় ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় হবে, যা হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে বহন করা অসম্ভব। ফলে হিন্দু সম্প্রদায়সহ অসহায় এসব পরিবার এখনও বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, মোবাইল চার্জ, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জিং এবং অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং বিকল্প সংযোগের ব্যয় সরকারি বা সামাজিকভাবে বহনের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

