দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (২৫ মে সকাল ৮টা থেকে ২৬ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত) হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৭২ দিনে এই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫৫ জনে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে একজনের নিশ্চিত হাম এবং বাকি ৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ ছিল। মৃতদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া ময়মনসিংহে ২ জন এবং রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত একদিনে নতুন করে আরও ১ হাজার ৮৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ে ৯৪৫ জন শিশুকে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিভাগে হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিশু ভর্তি হয়েছে ঢাকায় (৩৬৬ জন), এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১৯৩ জন) ও বরিশাল (১৫৭ জন)। তবে স্বস্তির খবর হলো, একই সময়ে ১ হাজার ১৮১ জন শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছে।
গত ১৫ মার্চ দেশে প্রথম হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পর থেকে গত ৭২ দিনের পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক:
মোট প্রাণহানি: ৫৫৫ জন (নিশ্চিত হামে ৮৮ এবং উপসর্গে ৪৬৭ জন)।
মোট উপসর্গ দেখা দিয়েছে: ৬৬ হাজার ২৩ জনের।
মোট হাম শনাক্ত: ৮ হাজার ৭৭২ জনের।
হাসপাতালে ভর্তি: এ পর্যন্ত ৫২ হাজার ৫৩০ জন শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ৪৮ হাজার ৮০০ জন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর ও শরীরে লালচে দানার মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিতে হবে। হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা এবং যথাযথ পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলেও জনসচেতনতা বৃদ্ধি না পেলে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে।

