খানজাহান আলী থানা প্রতিনিধি:
নগরীরর এ্যাজাক্স জুট মিলের বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে প্রতিবাদ সভা শুক্রবার বিকাল ৫ টায় এ্যাজাক্স জুটমিল শ্রমিক ক্লাবে অনুষ্ঠিত হয়। এ্যাজাক্স জুট মিলের শ্রমিক মোজাহার আলীর সভাপতিত্বে এবং শহিদুল ইসলামের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ হাওলাদার আব্বাস।
বিশেষ অতিথি ছিলেন কেসিসি ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন মিজান, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, যোগীপোল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর শওকত হোসেন হিট্টু , এ্যাজাক্স জুট মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া,বিএনপি নেতা ইমদাদুল হক, আজমল হোসেন, শাহাবুদ্দিন বুদ্ধি, জামায়াত ইসলামী নেতা মোল্লা হুমায়ুন কবির, খানজাহান আলী থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক জিহাদুল ইসলাম, খান জাহান আলী থানা তাঁতি দলের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান দিপু।
এছাড়া রাজনৈতিক দল, অঙ্গসংগঠন ও শ্রমিক সংগঠনের নেত…বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বক্তারা বলেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা ৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুলের নির্দেশে শ্রমিকদের পাওনা আদায়ে সর্বোচ চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে মিলের কোন মালামাল মিল থেকে বের হতে দেওয়া যাবে না। এ্যাযাক্স জুট মিলস& ও সোনালী জুট মিলস এর শ্রমিকদের বকেয়া পাওয়া পরিশোধ করে একনেকে পাশ করে ইপিজেট করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ সময় সভার সভাপতি মোজাহার আলী বলেন- আজ অত্যন্ত ক্ষোভ, দুঃখ এবং দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এক চরম বাস্তবতা নিয়ে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়েছি| যে এ্যাজাক্স জুট মিলকে আমরা আমাদের জীবনের সোনালী দিনগুলো দিয়েছি, দিন-রাত চাকার সাথে চাকা ঘুরিয়ে রক্ত পানি করা শ্রম দিয়েছি, আজ সেই মিলের গেটে আমাদের দাঁড়াতে হয়েছে ভিক্ষুকের মতো নয়, আমাদের নিজেদের কষ্টের বকেয়া পাওনা টাকা আদায়ের জন্য! এর চেয়ে লজ্জার, এর চেয়ে দুঃখের আর কী হতে পারে? মিলের চাকা বন্ধ হয়েছে, কিন্তু আমাদের পেটের ক্ষুধা তো বন্ধ হয়নি! আমাদের সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধের খরচ তো বন্ধ থাকেনি। বছরের পর বছর পার হয়ে যাচ্ছে, মিল কর্তৃপক্ষ আজ দেব, কাল দেব বলে আমাদের শুধু আশ্বাস আর তারিখের পর তারিখ দিয়ে গেছে| আমাদের বকেয়া বেতন, মুজুরি গ্র্যাচুইটি টাকা আটকে রেখে তারা আমাদের পরিবারগুলোকে তিল তিল করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে| আজ টাকার অভাবে আমাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারছে না, পরিবারের কেউ অসুস্থ বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে এ পর্যন্ত চিকিৎসার অভাবে ৪০০ বেশি শ্রমিক টাকা না পেয়ে মারা গেছে| আমরা কোনো দয়া ভিক্ষা চাচ্ছি না, আমরা আমাদের ঘাম ঝরানো ন্যায্য অধিকার ফেরত চাচ্ছি! আজকের এই ঐতিহাসিক প্রতিবাদ সভা থেকে আমরা এ্যাজাক্স জুট মিল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই— অনতি বিলম্বে আমাদের সমস্ত বকেয়া টাকা এককালীন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে| আরো বলেন – আগামী ২৫ইং জুলাই রোজ শনিবার ফুলবাড়ীগেট খুলনা যশোর মহা সড়কে মানববন্ধন কঠিন কর্মসুচি দেওয়া হল।
শ্রমিকের ঐক্যই শ্রমিকের সবচেয়ে বড় শক্তি| আমাদের এই ন্যায্য লড়াইয়ে কেউ আমাদের ভাঙতে পারবে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের বকেয়া টাকার শেষ পয়সাটি আমাদের হাতে এসে পৌঁছায় ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে, রাজপথ আমরা ছাড়ব না। এ্যাজাক্স জুট মিলের শ্রমিকদের বকেয়া টাকা, অনতিবিলম্বে ফেরত দাও!” আমাদের ঘামের পয়সা, মারতে দেওয়া হবে না! লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই!” সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন| এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন- আব্দুল ওহাব, আযাহার মাতব্বর, মুন্টু নেতা, সিরাজ মোড়ল, রতন মোল্লা, আবজাল, সাইদ, হাসান মোল্লা, আমির আলী, মাস্টার মাহবুব, কবীর হোসন, মনির, সোলাইমান।

