নেত্রকোণা প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার কলমাকান্দায় চোরাই পথে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের ঘটনায় পুলিশের এক এস আই ও চোরাকারবারীর মধ্যে ঘুষ নিয়ে দরকষাকষির অডিও বুধবার রাত ১০টার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।
এই ঘটনার অভিযুক্ত এস আইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার জেরে কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কেন্দুয়া থানার পেমই তদন্ত কেন্দ্র বদলি করে জেলা পুলিশ সুপার।
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ছড়িয়ে পড়া অডিওটি আমার নজরে আসা মাত্রই অভিযুক্ত এস আই মো. আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটক করতে পুলিশ অভিযান অব্যহত আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ডাব শ্যাম্পু, অলিভ অয়েলসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। এ সময় পিকআপের চালক শিংপুর গ্রামের নাসিম মিয়া (২৫) ও তার সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মুনির মিয়াকে (২১) আটক করা হয়। পরে থানায় মামলা রুজু করে আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে কলমাকান্দা থানার এস আই আবু হানিফার সঙ্গে মো. জসিম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে।
৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের প্রথম অডিওটিতে সময় দেখাচ্ছে মঙ্গলবার রাত একটা ২০ মিনিট। সেখানে জসিমকে বলতে শোনা গেছে স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দিবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন। এ সময় আবু হানিফাকে বলতে শোনা যায়-না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি ৩ লাখ টাকা দেন। আমি একটা জায়গার কথা বলবো সেখানে আপনি তিন লাখ নিয়ে আসেন। এটা আপনার জন্যই ভালো হবে। এরপর আমরা তো আছিই.. । রাত একটা ৪১ মিনিটে রেকর্ড করা ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অপর অডিওটিতে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে বলতে শোনা যায়- আপনি যা করবেন তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি। যান- আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম আড়াই টাকা নিয়ে আসেন। তখন জসিমকে বলতে শোনা যায় ভাই, আমি তো ছাড় দিছেন আরেকটু দেন। আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে ২ লাখ টাকা দিচ্ছি। আমারে একটু সময় দেন…। এক পর্যায়ে আবু হানিফা বলেন দেইখেন হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনের রেকর্ড করা যায় এটা করবেন না…।’
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি জানতে অভিযুক্ত এস আই আবু হানিফার ও মো. জসিম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে উভয়ের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অপর দিকে ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন জানান, আমার বদলি হয়েছে পুলিশ বিভাগের রুটি মোতাবেক। চোরাচালানের ঘটনা সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই।

