মনোয়ার বাবু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার করতোয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক নদীপাড়ের পরিবারের জন্য অবশেষে মিলেছে স্বস্তি। সংবাদ প্রকাশের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে নদীতীরে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছে। এতে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটানো এলাকাবাসী।
উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের কুলানন্দনপুর নাপিতপাড়া এলাকায় কয়েকদিন ধরে করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে নদীতীরের একের পর এক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছিল। প্রতিদিন ভাঙন আরও কাছে চলে আসায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর এবং নদীতীরবর্তী শতাধিক পরিবার। দিন-রাত আতঙ্কে কাটছিল তাদের জীবন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে শ্রমিকরা বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছেন। ভাঙনপ্রবণ অংশে দ্রুতগতিতে কাজ চলায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
৭৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, “প্রতিদিনই নদী একটু একটু করে এগিয়ে আসছিল। আর মাত্র দুই-তিন হাত জায়গা বাকি ছিল। এটা ভেঙে গেলে আর মাথা গোঁজার মতো জায়গা থাকত না। এখন বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে, তাই ভালো লাগছে।”
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারতাম না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয় ছিল। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় এখন কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছি। বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে, তাই মনে সাহস এসেছে।”
স্থানীয় সমাজসেবক মাহফুজার রহমান লাভলু বলেন, আপাতত বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও স্থায়ীভাবে নদীশাসনের উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আবারও একই সংকট তৈরি হবে। তিনি দ্রুত টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, কুলানন্দনপুর এলাকায় বর্তমানে যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার কাজ চলছে, তা সম্পূর্ণ আপদকালীন ও জরুরি ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ৩০৮টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ফেলা হবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুম শেষে স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে সিসি ব্লক বা রিভেটমেন্ট নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নদীর ভয়াল থাবার মুখে যখন আশ্রয় হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিল শতাধিক পরিবার, তখন জরুরি এই উদ্যোগ তাদের মনে সাময়িক স্বস্তি ফিরিয়েছে। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাময়িক ব্যবস্থা নয়, স্থায়ী নদীশাসনই পারে ভবিষ্যতে তাদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করতে।

