সত্যজিৎ দাস:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে ৭ কেজি গাঁজাসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার ছেলে পালিয়ে গেলেও বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক বিক্রির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
সোমবার (১৮ মে) মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় মৌলভীবাজার সূত্রে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং পরিদর্শক মাসুদুর রহমান তালুকাদারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শ্রীমঙ্গল থানাধীন আরামবাগ আবাসিক এলাকার উকিল বাড়ি রোড ঘিরে ফেলে ডিএনসির রেইডিং টিম। দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার (১৭ মে) মধ্যরাতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিএনসির পরিদর্শক অমর কুমার সেন।
অভিযান চলাকালে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত সাগর রবিদাস পালিয়ে যান। তবে পালানোর চেষ্টা করেও রেইডিং টিমের সহায়তায় আটক হন ময়না রবিদাস (৫৭)। পরে তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে মাদক ও মাদক বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়,তল্লাশিতে একটি কালো পলিথিন ব্যাগে রাখা ১০০টি গাঁজার পুরিয়া উদ্ধার করা হয়, যার প্রতিটি প্রায় ১০ গ্রাম ও মোট ওজন ১ কেজি। এছাড়া পৃথক আরেকটি ব্যাগে আরও ১ কেজি গাঁজা এবং একটি সিনথেটিক বস্তার ভেতরে রাখা পাঁচটি কালো পলিথিন ব্যাগে প্রতি ব্যাগে ১ কেজি করে মোট ৫ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। সব মিলিয়ে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় গাঁজা পরিমাপের একটি ডিজিটাল ব্যাটখারা ও ২০ পিস সাদা কাগজও জব্দ করা হয়।
আটক ময়না রবিদাস শ্রীমঙ্গলের আরামবাগ আবাসিক এলাকার উকিল বাড়ি রোডের বাসিন্দা। পলাতক সাগর রবিদাসও একই এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক নারী ও তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী ভারত থেকে বিভিন্ন কৌশলে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডিএনসি। সংস্থাটি জানায়,এ নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে নজরদারি ও তথ্য বিশ্লেষণ অব্যাহত রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্রীমঙ্গল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে ডিএনসি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

