শাওন বেপারী, শরীয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যা করে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আসমা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পালং মডেল থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফেসবুকে পরিচয়ের পর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার আসাদ তালুকদারকে ছেড়ে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার প্রবাসী রাজ্জাক সরদারের ছেলে জিয়া সরদারকে বিয়ে করেন পিরোজপুরের নাজিরপুর এলাকার আসমা বেগম।
গত বুধবার রাতে চন্দ্রপুর বাজার এলাকার একটি ভাড়া বাসায় পরকীয়ার সন্দেহকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে আসমা বেগম লোহার রড দিয়ে জিয়া সরদারের মাথায় আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যার পর আসমা ঘরে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে মরদেহের দুই হাত, দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আলাদা করে পলিথিনে ভরে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে সংরক্ষণ করেন। পরে বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে তিনি মরদেহভর্তি ড্রামটি পালং শহরের জনৈক মোতালেবের বাসায় নিয়ে যান।
এদিকে, জিয়া সরদারের দুই হাত ও দুই পা অটোরিকশাযোগে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদী এলাকায় ফেলে আসেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন আসমা বেগম।
স্থানীয়রা মোতালেবের বাসায় ড্রামভর্তি মরদেহ দেখে সন্দেহ হলে পালং মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আসমা বেগমকে আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত জিয়া সরদারের স্বজন ও স্থানীয়রা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
পালং মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানায়, নিহতের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। তিনি এসে এজাহার দায়ের করলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

