যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে একাধিক নারী ও কিশোরীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল হালিম খান। আদালত রায়ে তাকে অন্তত ২০ বছর কারাভোগের নির্দেশ দিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে শুনানি শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে আনা একাধিক গুরুতর যৌন অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাতজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ২১টি যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন হালিম খান। এর মধ্যে ছিল একাধিক ধর্ষণের অভিযোগ এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন নিপীড়নের ঘটনাও।
তদন্তে উঠে আসে, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে ধর্মীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নারীদের আস্থা অর্জন করতেন। পরে আধ্যাত্মিক প্রভাবের কথা বলে বিভিন্ন কৌশলে তাদের যৌন নির্যাতনের শিকার বানাতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেনি রোনান বলেন, সমাজে নিজেকে সম্মানিত ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরলেও বাস্তবে হালিম খান ছিলেন নারীদের জন্য হুমকি। বিশেষ করে দুর্বল ও অসহায় অবস্থায় থাকা নারীদের তিনি টার্গেট করতেন।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীরা সাহসিকতার সঙ্গে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং পুরো বিচারপ্রক্রিয়ায় মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন। এই রায় ভবিষ্যতে অন্য ভুক্তভোগীদেরও আইনের আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। এক কিশোরী তার স্কুল শিক্ষকের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়। পরে তদন্তকারীরা ৫০ জনের বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেন এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
যদিও তদন্ত চলাকালে হালিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছিলেন, আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে অভিযোগগুলোকে সত্য বলে রায় দেন।

