কাছের বন্ধুরা বেশির ভাগ সময় আজীবন বন্ধু হয়েই পাশে থাকেন। কিন্তু সেই চেনা নিয়মের বাইরে গিয়ে নিজের ১৪ বছরের পুরনো ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা সেরা বন্ধু আবদুল ওয়াদুদকেই জীবনের চরম সিদ্ধান্তের অংশীদার ও জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ।
গত শুক্রবার (৪ জুলাই ২০২৬) মা হতে যাওয়ার আনন্দের পাশাপাশি নিজের দ্বিতীয় বিয়ের খবরটিও প্রকাশ্যে আনেন তিনি। তবে সবকিছুর মাঝে ভক্ত ও নেটিজেনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার ঝড় তুলেছে তাঁদের এই ‘সেরা বন্ধু থেকে জীবনসঙ্গী’ হওয়ার গল্পটি।
কিন্তু কেন তিনি দীর্ঘ ১৪ বছরের পুরনো বন্ধুকে বিয়ে করলেন? এ বিষয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অকপটে নিজের মনের কথা ও অনুভূতির কথা ভাগ করে নিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
‘সামনেই আপনজন থাকে, কিন্তু নজরে পড়ে না’
সেরা বন্ধুকে বিয়ের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে মৌসুমী হামিদ বলেন:
“আমার জীবনের যেকোনো পরিস্থিতিতে, সবকিছুতেই ওয়াদুদ সব সময় আমার পাশে থেকেছে। আমরা দুজনই একটা সময় ব্যক্তিগত জীবনে একা ছিলাম। দুজনই সুন্দর একটা সংসার করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু জীবনের ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক মিলছিল না। জীবনে তো এমনটা কখনো কখনো হয়—হয়তো একদম সামনেই আপনজন থাকে, কিন্তু সহজে নজরে পড়ে না! আমিও সংসারি হতে চাইতাম, সে-ও এমনটাই চাইত। নিজেদের মধ্যে নিয়মিত আড্ডা আর গভীর কথাবার্তার মধ্য দিয়ে একপর্যায়ে মনে হয়েছে, আমরা কেন সেরা বন্ধু থেকে লাইফ পার্টনার হতে পারি না? আমাদের নিজেদের প্রতি সেই পারস্পরিক সম্মানটা আছে এবং আমাদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নটাও এক। যে কারণেই মূলত আমরা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিই এবং পরবর্তীতে ঘরোয়াভাবে বিয়ে করি।”
মৌসুমী হামিদ জানান, মা হতে যাওয়ার আনন্দের কারণে অনাগত সন্তানের সুরক্ষায় গত প্রায় দুই মাস ধরে সব ধরনের লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশন অর্থাৎ শুটিং থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন তিনি। তবে ঘরে বসে না থেকে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘অ্যাডসেলারেট টেকনোলজিস লিমিটেড’ (Adcelerate Technologies Limited)-এ নিয়মিত সময় দিচ্ছেন।
মজার বিষয় হলো, এই দম্পতি শুধু জীবনের পার্টনার নন, ব্যবসার মাঠেরও পার্টনার। মৌসুমী ও তাঁর স্বামী আবদুল ওয়াদুদ মিলেই এই প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। প্রতিষ্ঠানটি মূলত দেশের বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে পাবলিক ওয়াই-ফাই সেবা দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডকে লোকেশনভিত্তিক বিজ্ঞাপন এবং ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে কারিগরি সহায়তা প্রদান করে।
বিনোদন অঙ্গনে প্রায় দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ার মৌসুমী হামিদের। তবে এই পথটা যে মোটেও মসৃণ ছিল না, তা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, “ক্যারিয়ারে নানা রকম স্ট্রাগল বা কঠিন সময় আসে। আমি অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, উত্থান-পতন পেরিয়ে আজকের এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি। তাই এখন আমার প্রধান চাওয়া—আমার একটি সুস্থ বাচ্চার জন্ম হোক এবং তাকে আমি সুন্দর ও নিরাপদ একটি পরিবেশ দিতে পারি।”
জীবনের নতুন এই সুন্দর অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে মৌসুমী হামিদ সবশেষে একটি দারুণ উপলব্ধি শেয়ার করেন। তিনি মনে করেন, জীবনে যেমন একজন ভালো বন্ধু দরকার, ঠিক তেমনি জীবন পার করার জন্য একজন ভালো পার্টনার বা জীবনসঙ্গী দরকার—যে সব সময় বন্ধুর মতোই ছায়ার মতো পাশে থাকবে। আগামী দিনগুলোতে নিজেদের স্বপ্নকে পরিপূর্ণতা দিতে ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চেয়েছেন এই হবু মা।

