সম্প্রতি একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি রাণী পালের ফেসবুক রিলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসে জনপ্রিয় ব্যান্ড গান ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’। রিলটি নিয়ে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনার প্রতিবাদে দেশজুড়ে শিক্ষকরা একই গান ব্যবহার করে সংহতি প্রকাশ করেন। এর ফলে প্রায় চার দশক পুরোনো এই গানটি আবারও নতুন করে আলোচনায় উঠে আসে।
১৯৮৭ সালে ডিফ্রেন্ট টাচ ব্যান্ডের অ্যালবামের জন্য গানটি লিখেছিলেন গীতিকার ও সুরকার আশরাফ বাবু। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, টানা চার দিনের বৃষ্টির মধ্যে অ্যালবামের শেষ গানের প্রয়োজন ছিল। রেকর্ডিংয়ের আগের রাতে জানালার পাশে বসে শ্রাবণের বৃষ্টি দেখতে দেখতেই তাঁর মাথায় আসে গানের কথা। সেই রাতেই লেখা শেষ হয় ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’, যা পরে ব্যান্ডটির সিগনেচার গানে পরিণত হয়।
অ্যালবামটি প্রকাশ করে ইলেকট্রা ভয়েস। গানটি প্রথম গেয়েছিলেন আলী আহমেদ বাবু এবং অ্যালবামে কণ্ঠ দেন ব্যান্ডের অন্যতম ভোকাল মেজবাহ রহমান। সহজ-সরল কথা ও সুরের কারণে প্রকাশের পর থেকেই গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। আজও বিভিন্ন কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ব্যান্ড সংগীতের আসরে গানটি নিয়মিত পরিবেশিত হয়।
গানটি ঘিরে রয়েছে একটি মজার ঘটনাও। ১৯৯১ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কনসার্টে ডিফ্রেন্ট টাচ ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ গাওয়া শুরু করার কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি শুরু হয়, ফলে অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরের বছর একই স্থানে একই গান শুরু হতেই আবারও বৃষ্টি নামে। ঘটনাটি আজও ব্যান্ডটির সদস্যদের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে।
শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে
অঝোরে নামবে বুঝি শ্রাবণে ঝরায়ে
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে
কবিতার বই সবে খুলেছি
হিমেল হাওয়ায় মন ভিজেছে
জানালার পাশে চাপা মাধবী
বাগানবিলাসী হেনা দুলেছে
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে
মেঘেদের যুদ্ধ শুনেছি
সিক্ত আকাশ কেঁদে চলেছে
জমেছে হাঁসের জলকেলি
পথিকের পায়ে হাঁটা থেমেছে
আজ কেন মন উদাসী হয়ে
দূর অজানায় চায় হারাতে

