বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে জাতীয় বাজেট ঘোষণার দিনে অর্থমন্ত্রীর হাতে একটি বিশেষ ব্রিফকেস দেখা যায়, যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে থাকে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।
এ ব্রিফকেসে সাধারণত কোনো অর্থ বা নগদ টাকা থাকে না। বরং এতে থাকে আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতার খসড়া, আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা, করনীতি, রাজস্ব কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেট ঘোষণার আগে এসব নথি গোপন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বাজেটের করনীতি বা শুল্ক পরিবর্তনের তথ্য আগেই প্রকাশ পেলে ব্যবসায়ীরা বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব ফেলতে পারেন। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এসব কাগজপত্র একটি সুরক্ষিত ব্রিফকেসে বহন করার রীতি চালু আছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই প্রথার সূচনা হয় ব্রিটেনে, শিল্পবিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যখন রাষ্ট্রীয় বাজেট অনেক বড় ও জটিল হয়ে ওঠে। পরে এটি ধীরে ধীরে ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থার অংশ হয়ে যায়, যা উপমহাদেশেও ব্রিটিশ শাসনামলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
উপমহাদেশে ১৮৬০ সালে কলকাতায় জেমস উইলসন প্রথম আধুনিক বাজেট উপস্থাপন করেন। এরপর থেকে বাজেট উপস্থাপনার এই আনুষ্ঠানিকতা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম বাজেট উপস্থাপন করেন, সেখানেও এ ধরনের ব্রিফকেস ব্যবহারের রীতি দেখা যায়। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ের অর্থমন্ত্রীরাও বাজেট পেশের সময় লাল বা গাঢ় রঙের ব্রিফকেস বহন করেছেন, যা বাজেট উপস্থাপনার একটি প্রতীকী অংশে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে ব্রিফকেসটি মূলত একটি আনুষ্ঠানিক প্রতীক—যার ভেতরে থাকে দেশের আগামী এক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখা।

