ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে কেন্দ্র করে অতীতে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনা। ২০২৪ সালের ২৫ জুন প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে খোলামেলা মন্তব্য করেছিলেন পরীমনি, যেখানে তিনি তখন দাবি করেন সাকলায়েনকে ঘিরে বিষয়টি অনেকাংশেই ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে চাকরি হারানোর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পরীমনি বলেছিলেন, বিষয়টি নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা হলেও তা এখনও ব্যক্তিগত পর্যায়ে স্পষ্টভাবে আসেনি। তাঁর মতে, আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলবেন।
অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে পরীমনি জানান, একটি সম্পর্ক একতরফা হয় না এবং তাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও গুজব ছড়ানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি নিয়ে কারও কাছ থেকেই পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেওয়া হয়নি, ফলে অনেক কিছুই অনুমাননির্ভরভাবে লেখা হয়েছে।
নিজেদের সম্পর্ককে ঘিরে চলমান বিতর্কের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, সম্পর্কটি কী ছিল তা নিয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা হয়নি বলেই এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
পরবর্তীতে পরীমনি দাবি করেন, সাকলায়েনকে ঘিরে নেওয়া সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে এবং এটি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেও হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। একইসঙ্গে তিনি তখন সাকলায়েনকে একজন দক্ষ ও মেধাবী কর্মকর্তা হিসেবেও উল্লেখ করেন এবং তাঁর প্রতি নেওয়া সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নৈতিকতাবহির্ভূত আচরণ ও চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

