২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ধারার অংশ হিসেবে ‘লুটপাট ও পাচারমুখী’ এবং ‘উৎপাদনবিমুখ’ বলে সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন।
দলটির দাবি, এই বাজেট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
শুক্রবার রাজধানীর তোপখানা রোডে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করা হয়। সেখানে প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনার পাশাপাশি একটি বিকল্প বাজেট প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয় বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতি, টাকার মান কমে যাওয়া এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অবনতি বিবেচনায় না নিয়েই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। তাঁর মতে, এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যর্থ হবে এবং ঋণের ওপর নির্ভরতা আরও বাড়াবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনীতিকে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাজেট বাস্তবায়নে আমলাদের কার্যকারিতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন ও পদোন্নতি–পদাবনির ব্যবস্থা চালুর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বিকল্প প্রস্তাবে কর ব্যবস্থার সংস্কার, করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি এবং উচ্চ আয়ের ওপর বেশি কর আরোপের সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা খাতে কর সুবিধা, সরকারি অপচয় কমানো, দেশীয় শিল্প সুরক্ষা এবং এসএমই ঋণ সম্প্রসারণের কথা বলা হয়।
এছাড়া কৃষি সমবায়, কোল্ড স্টোরেজ সম্প্রসারণ, কৃষি ভর্তুকি বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক গ্রিন এনার্জি প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

