ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের বিধ্বংসী ব্যাটিং ঝড়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পুঁজি পায় প্রায় দুইশ ছোঁয়া (১৯৬ রান)। রান পাহাড় তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশও ছেড়ে কথা বলেনি। তানজিদ, সাইফ ও পারভেজ হোসেন ইমনের ব্যাটে ভর করে শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ জমিয়ে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু হাতের নাগাল থেকে শেষ মুহূর্তের চরম বিপর্যয়ে দুর্দান্ত এক জয় হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারের পর এই দ্বিতীয় ম্যাচেও ৭ রানে হেরে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ২-০ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিশ্চিত করল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। এর মাধ্যমে ওয়ানডে সিরিজ হারের মধুর বদলা নিলেন মিচেল মার্শ-টিম ডেভিডরা।
ম্যাচ সংক্ষেপ:
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৬/৫ (২০ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৮৯/৬ (২০ ওভার)
ফলাফল: অজিরা ৭ রানে জয়ী।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বসা অজিদের টেনে তোলেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন মাত্র ৫০ বলে ৯৭ রানের এক টর্নেডো জুটি গড়েন।
বাঁহাতি ব্যাটার ম্যাট রেনশ ৫২ বলে ৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৮৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। ইনিংসের ১৩তম ওভারে বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনকে পরপর ৩টি বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি। অন্যদিকে পাঁচে নামা টিম ডেভিড ২৬ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় খেলেন ৪৫ রানের এক ঝড়ো ইনিংস। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে নাসুম আহমেদ ২৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। এছাড়া সাকলাইন, নাহিদ রানা ও মোস্তাফিজুর রহমান ১টি করে উইকেট শিকার করেন।
১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান পাওয়ার প্লে-তেই তুলে নেন ৭২ রান। তানজিদ ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হলেও সাইফ এক প্রান্ত আগলে রাখেন। তিনে নামা সৌম্য সরকার ১৫ রান করে বিদায় নেন।
তৃতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান মিলে ৩৬ বলে ৫৩ রানের এক আশাজাগানিয়া জুটি গড়েন। ইমন ক্রিজে এসেই চড়াও হন অজি বোলারদের ওপর। নবম ওভারে অ্যাডাম জাম্পাকে পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা মারেন তিনি। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের মুঠোয়, তখনই ভুল শট খেলে ৪ রানের ব্যবধানে পরপর দুই ওভারে আউট হন থিতু হওয়া দুই ব্যাটার। ইমন ২২ বলে ৩৬ (২ চার, ৩ ছক্কা) এবং সাইফ ৩৩ বলে ৪২ রান (৩ চার, ২ ছক্কা) করে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। ক্রিজে ছিলেন অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। প্রথম ৩ বলে কোনো বাউন্ডারি না আসায় সমীকরণ কঠিন হয়ে যায়। তবে চতুর্থ বলে বিশাল এক ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন হৃদয়।
শেষ ২ বলে প্রয়োজন ছিল ১২ রান। পঞ্চম বলে তাওহীদ হৃদয় বড় শট খেললেও ব্যাটের কানায় লেগে চার রান হয়। ফলে শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজন দাঁড়ায় ৮ রান। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় সীমানায় ক্যাচ দিয়ে বসেন অধিনায়ক। ২২ বলে ৩৫ রান করে আউট হন তিনি। বাংলাদেশ থামে ১৮৯ রানে।
আগামী ২১ জুন একই মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সেদিন মাঠে নামবে শান্ত-হৃদয়রা।

