সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের রাজনগর ও কমলগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি ধীরগতিতে কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্যমান হচ্ছে বন্যার রেখে যাওয়া ক্ষয়ক্ষতির চিত্র। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি, আমন ও আউশের বীজতলা, গ্রামীণ সড়ক এবং বিশুদ্ধ পানির উৎস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,বন্যার পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকার আমন ধানের ক্ষেত ও আউশ আবাদের বীজতলা তলিয়ে গেছে। বিভিন্ন গ্রামের কাঁচা-পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি পুকুর,ডোবা ও নলকূপ পানিতে ডুবে যাওয়ায় বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র বিশুদ্ধ পানির সংকট। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রামের বাসিন্দা শিব্বির আহমেদ বলেন,বন্যায় তাদের ফসলি জমিসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি হয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠা সাধারণ কৃষকদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি জানান, প্রায় ২০০ ফুট বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় তাদের এলাকায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন।
একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলাতেও। ধলাই নদীর ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে বহু পরিবার পানিবন্দি হয় এবং কৃষি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে,দুই উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের জন্য এখন পর্যন্ত এক হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার এবং ১১০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন,জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি ধীরে ধীরে কমছে। উজানের বৃষ্টিপাত পুরোপুরি থেমে গেলে বন্যা পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার বলেন,জেলা প্রশাসনের বরাদ্দ পাওয়া শুকনো খাবার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

