বিশ্বকাপে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ড্র এনে দিলেও ম্যাচ শেষে আবেগ সামলাতে পারেননি কেপ ভার্দের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপারের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যাচটি ০-০ ব্যবধানে শেষ হয় এবং তিনি ম্যাচসেরার স্বীকৃতিও পান। তবে শেষ বাঁশি বাজার পর তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়।
বুধবার (১৭ জুন) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ম্যাচ শেষে ভোজিনহা নিজের পারিবারিক কষ্টের কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই মুহূর্তে তার মা উপস্থিত থাকতে পারেননি আর্থিক জটিলতা ও ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে।
ভোজিনহা বলেন, তিনি দাদা-দাদির কাছেই বড় হয়েছেন, যারা এখন আর বেঁচে নেই। তাদের স্মৃতি তাকে সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার মা যুক্তরাষ্ট্রে আসতে চাইলেও ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “আমি ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল শুরু করি। অনেকবার হাল ছাড়ার কথাও ভেবেছিলাম, কিন্তু স্বপ্নের পেছনে লেগে ছিলাম। আজকের এই অর্জন শুধু আমার নয়, পুরো দলের।”
ম্যাচ শেষে তার আবেগঘন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীরা তার গল্পে সহানুভূতি প্রকাশ করেন। অনেকেই বলেন, বিশ্বকাপ শুধু মাঠের লড়াই নয়, এটি জীবনের সংগ্রাম ও আবেগের প্রতিচ্ছবিও।
এরপরই সামনে আসে নতুন এক ইতিবাচক অগ্রগতি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মার্কিন কর্তৃপক্ষ ভোজিনহার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে এবং তার মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার প্রক্রিয়ায় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ভিসা ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য কাজ চলছে, যাতে তিনি টুর্নামেন্ট চলাকালীন সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারেন।
তবে এখনো তার ভিসা অনুমোদন বা যাত্রার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় রয়েছে।
সব মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের আবেগঘন এই গল্প ভোজিনহার নামকে বিশ্বকাপের আলোচনায় আরও গভীরভাবে জায়গা করে দিয়েছে।

