বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান অচলাবস্থার কারণে। আন্তর্জাতিক সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়। কিন্তু ইরান যুদ্ধের প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় সরবরাহ সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি।
এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশ জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।
যুক্তরাজ্যে জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, ফলে পেট্রোলের দাম ঊর্ধ্বমুখী। অতিরিক্ত মুনাফা রোধে সরকার কঠোর নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
আয়ারল্যান্ড সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে ৫০৫ মিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে। থাইল্যান্ডে সরকারি কর্মকর্তাদের এসি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়ে একদিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ফিলিপিন্স ও মিশরে অফিস কার্যক্রমে সপ্তাহে চার দিন কাজের নীতি চালু করা হয়েছে, যাতে জ্বালানি ব্যবহার কমানো যায়।
মিয়ানমার ও স্লোভেনিয়ায় ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য জ্বালানি রেশন ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার দুই রাজ্যে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ট্রেন, বাস ও ফেরিতে চলাচল বিনামূল্যে করা হয়েছে।
অন্যদিকে চীন নিজস্ব বিশাল জ্বালানি মজুদ ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং সাময়িকভাবে তেল রফতানি সীমিত করেছে।
সব মিলিয়ে হরমুজ সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে।

