মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন শুক্রবার চীনভিত্তিক একটি বড় তেল শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি শিপিং কোম্পানি ও ট্যাঙ্কারের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এগুলো ইরানের তেল পরিবহন ও ক্রয়ের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হলো হেঙ্গলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি কোম্পানি। এটি চীনের অন্যতম বড় ‘টিপট’ (স্বাধীন) শোধনাগার, যার দৈনিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল। এই শোধনাগার ইরান থেকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অপরিশোধিত তেল কিনেছে বলে জানানো হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য জাহাজ ও সংস্থা। এগুলো ইরানি তেল চীনে পাঠানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এই বাণিজ্য ইরানকে কোটি কোটি ডলার রাজস্ব দিচ্ছে, যা তেহরানের অস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক অস্থিরতায় সাহায্য করছে।
ট্রাম্প প্রশাসন ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ নীতির অংশ হিসেবে ইরানের তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। চীন ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা। যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও একাধিকবার চীনা ‘টিপট’ শোধনাগার ও শিপিং সংস্থাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞায় যুক্ত সংস্থাগুলোর মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বন্ধ হয়ে যাবে এবং তাদের সঙ্গে লেনদেনকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। চীন এখন পর্যন্ত এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার। এ পদক্ষেপ ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

