হরমুজ প্রণালিতে গত কয়েক ঘণ্টার উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ বা প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের অভিযান শুরুর পরপরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও সিএনএন-এর তথ্যমতে, সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান এই পথটি।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মার্কিন সুরক্ষায় থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর হামলার চেষ্টা করলে পাল্টা আঘাত হানে মার্কিন বাহিনী।
মার্কিন অ্যাপাচি ও সিহক হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ইরানের ৬টি ছোট সামরিক নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া একাধিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে মার্কিন ডেস্ট্রয়ারগুলো।
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে তারা একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে নাকচ করে দিয়েছে।
সোমবার (৪ মে) থেকে শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল লক্ষ্য হলো গত ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের অবরোধে আটকে পড়া প্রায় ৮৭টি দেশের কয়েকশ জাহাজকে নিরাপদ পথ তৈরি করে বের করে আনা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, মার্কিন অভিযানে এ পর্যন্ত ৭টি ইরানি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি একে একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, জাহাজগুলোতে খাবার ও জরুরি রসদ ফুরিয়ে আসায় এই হস্তক্ষেপ জরুরি ছিল।
মার্কিন সামরিক শক্তির এক বিশাল বহর এখন পারস্য উপসাগরে মোতায়েন রয়েছে:
প্রায় ১৫,০০০ মার্কিন সেনা, নৌবাহিনীর একাধিক ডেস্ট্রয়ার এবং শতাধিক অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ এই অভিযানে যুক্ত। প্রণালি খুলে দিতে প্রথমেই সমুদ্রের নিচে পাতা মাইন অপসারণ করে একটি নিরাপদ রুট তৈরি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের মধ্যেই একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজ (HMM Namu) বিস্ফোরণ ও আগুনের কবলে পড়ে। তবে এটি হামলা না কি অভ্যন্তরীণ যান্ত্রিক ত্রুটি, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (LNG) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

