দেওয়ান মাসুকুর রহমান, নিজস্ব প্রতিবেদক :
জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জ্যোতিশংকর ঝন্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মানিক এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর- পূর্বাঞ্চলের হাওড় এলাকায়, বিশেষ করে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ নেত্রকোনা জেলায় অকাল বন্যা, অতিবৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সরকারের স্থানীয় প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব জেলায় হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ এবং আংশিক বিনষ্ট হয়েছে। ফলে লাখো কৃষক পরিবার তাদের একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
এই প্রেক্ষিতে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে এবং সরকারের কাছে দাবি করছে। ক্ষতিগ্রস্থ সকল কৃষকের নায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জরুরী ভিত্তিতে নগদ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। আগামী মৌসুমে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কৃষি উপকরণ দিতে হবে। কৃষি ঋণগ্রস্থ কৃষকদের ঋণ মওকুফ করতে হবে। হাওড় অঞ্চলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসাবে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় জরুরী খাদ্য সহায়তা দিতে হবে।
জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে হাওড় অঞ্চলের কৃষকদের টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই সরকারের কাছে অবিলম্বে আশু ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান রাখেন।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মৌলভীবাজার জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য, আরপি নিউজের সম্পাদক ও বিশিষ্ট কলামিস্ট কমরেড সৈয়দ আমিরুজ্জামান বলেছেন, “প্রতিবছরই হাওরাঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পাশাপাশি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাঁচাতে সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

