এম শাহীন আল আমীন, জেলা প্রতিনিধি :
ঈদুল আজহা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক সদস্যের জন্য প্রীতি ভোজের আয়োজন করেছেন দুই মুসলিম আইনজীবি। ব্যাতিক্রম আয়োজনে শুধু হিন্দুদেরই দাওয়াত করা হয়ে ছিলো।
শনিবার(৩০মে) দুপুরে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আকন্দপাড়ায় নিজ বাড়ীতে এডভোকেট মোঃ সোহেল রানা আকন্দ ও এডভোকেট মোছাঃ ওয়াহিদা বেগম বেলি ওই আয়োজন করেন।
জানা গেছে, এডভোকেট মোঃ সোহেল রানা আকন্দ ও তার স্ত্রী এডভোকেট মোছাঃ ওয়াহিদা বেগম বেলি সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবি। তাদের বাড়ীর পাশেই হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক সদস্য রয়েছে। অধিকাংশ পরিবারই আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল এবং তারা মুচি বা ঋষি সম্প্রদায়ের সদস্য। আশেপাশের সিংহভাগ পরিবার মুসলিম। মুসলিমদের নানা উৎসবে ৩/৪ জন হিন্দুদের দাওয়াত দেওয়া হলেও ঋষি সম্প্রদায়ের সদস্যদের কেউ দাওয়াত করেন না।
এ কারণে ধীরে ধীরে আশেপাশের মানুষদের সাথে ঋষি সম্প্রদায়ের সদস্যদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দুরত্ব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ দুরত্ব কমিয়ে আনার জন্যই ঋষি সম্প্রদায়ের দুই শতাধিক সদস্যের জন্য প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন দুই দম্পতি আইনজীবি।
দুপুরে পাড়ার ছোট বড় সবাই এক সাথে বসে খাবার খেয়ে যান তারা। বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ্য ব্যাক্তিদের জন্য খাবার নিজ নিজ বাড়ীতে পৌছে দেওয়া হয়। রান্নার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঋষি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে রান্নার কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করে। সবার অংশ গ্রহনে আয়োজন এক মিলন মেলায় পরিনত হয়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত উৎসব মুখোর পরিবেশ বিদ্যমান ছিলো।
ঋষি পাড়ার প্রবীন ব্যাক্তিত্ব নেপাল চন্দ্র ঋষি বলেন, প্রায় শত বছর যাবৎ আমরা এখানে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এ ধরনের আয়োজন কেউ করেনি। এ আয়োজনে সত্যিই আমরা সম্মানবোধ করছি।
প্রীতি ভোজের আয়োজক এডভোকেট মোঃ সোহেল রানা আকন্দ বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট করতেই প্রীতি ভোজের আয়োজন। তারা আমাদের প্রতিবেশি। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও একই মানচিত্রে একই আলো বাতাসে বসবাস। বাংলাদেশের নাগরিক ও প্রতিবেশি হিসেবে সামাজিক অধিকারের অংশ হিসেবেই প্রীতি ভোজের আয়োজন। চেষ্টা থাকবে ধরনের আয়োজন যাতে আরও করতে পারি।

